হেডলাইন
◈ মিরাজের অনবদ্য সেঞ্চুরি ◈ আমাদের ভাগ্য আর কারও হাতে নেই: এরদোগান ◈ সংঘাত নয়, আমরা সমঝোতায় বিশ্বাসী: প্রধানমন্ত্রী ◈ খেলায় ফিরেই গোল, পেলে-রোনালদো রেকর্ডে ভাগ বসালেন নেইমার ◈ ক্রিমিয়ার সেই সেতু দিয়ে গাড়ি চালিয়ে গেলেন পুতিন ◈ ওয়াসার এমডির বৈধতা রিটের আদেশ আজ ◈ ব্রাজিল নেইমারনির্ভর দল নয়’ ◈ চীনা প্রেসিডেন্টকে নিয়ে সৌদি যুবরাজের নতুন সমীকরণ! ◈ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আপিল শুনানি শুরু ◈ এমবাপ্পের জোড়া গোলে পোল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স ◈ লাপিডের বিরুদ্ধে সেনা অভ্যুত্থানের অভিযোগ নেতানিয়াহুর ◈ ট্রেনের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন আসছে ◈ ব্রাজিল শিবিরে ফের দুঃসংবাদ ◈ ইউক্রেনের ১৭ দূতাবাসে রহস্যজনক প্যাকেট ◈ নয়াপল্টনে সমাবেশের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে বিএনপি, আশা আইজিপির ◈ স্পেনকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোতে জাপান ◈ রাশিয়ার যুদ্ধে ইউক্রেনকে যে প্রতিশ্রুতি দিল যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স ◈ ভীতির সংস্কৃতি চলছে, উন্নয়নের নিচে চোরাবালি ◈ ৯২ তম জন্মদিনে আইনজীবীদের ভালবাসায় সিক্ত হলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার! ◈ সানিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে শোয়েবকে বিয়ে করবেন কিনা, যা বললেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী
হোম / অর্থনীতি / বিস্তারিত

For Advertisement

শ্রমিকেরা কেন বকেয়া মজুরি পাবেন না

২৪ মে ২০২২, ১০:৪২:০৬

গত শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সেমিনারে রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদ ও শ্রমিকনেতারা বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত পাট ও চিনিকলগুলো চালু এবং শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সরকার লোকসানের দোহাই দিয়ে ২০২০ সালের শেষ দিকে ১৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের মধ্যে ৬টি বন্ধ ঘোষণা করে।

একই যুক্তিতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোও বন্ধ করে দিয়ে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে বেশ কয়টি কারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কিন্তু বন্ধ হয়ে যাওয়া পাট ও চিনিকলের শ্রমিকেরা এখনো তাঁদের বকেয়া মজুরি পাননি।

লোকসানের অজুহাতে সরকারি পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হলেও বেসরকারি পাটকলের সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। এর অর্থ দেশে ও বহির্বিশ্বে পাটজাত পণ্যের চাহিদা আছে। প্লাস্টিক ও পলিথিনের তৈরি পণ্যের বিকল্প হিসেবে আমরা পাট ব্যবহার করলে একদিকে পরিবেশ, অন্যদিকে পাটকলগুলো রক্ষা পাবে। লাভবান হবেন পাটচাষিরাও। পাট দিয়ে চটের বস্তা, থলে, দড়ির বাইরেও কাপড়সহ অনেক ধরনের জিনিস তৈরি করা সম্ভব। ভারত, চীনসহ অনেক দেশেই পাটের ব্যবহার বেড়েছে। এ অবস্থায় পাটশিল্পের বিকাশে রাষ্ট্রকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে।

স্বাধীনতার পর থেকে পাট, বস্ত্র, চিনিকলসহ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানায় লোকসান হওয়ার পেছনে শ্রমিকেরা দায়ী নন। দায়ী হলো সরকারের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা, দুর্নীতি, অপচয় ও ভুল সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) প্রতিবেদনেও পাটকলের লোকসানের কারণ হিসেবে অব্যবস্থাপনা, সময়মতো পাট কেনায় টাকা ছাড় না দেওয়া, পুরোনো যন্ত্রপাতি, মাথাভারী প্রশাসন, নিম্নমানের পাট, ক্রয়-বিক্রয়ে দুর্নীতি ও কাঁচা পাটের অভাবকে দায়ী করেছে।

বিস্ময়কর হলো কারখানা পরিচালনার অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির জন্য যাঁরা দায়ী, তঁাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অথচ সবকিছুর জন্য শ্রমিকদের দায়ী করা হয়, তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা পরিচালনার জন্য বিজেএমসি, বিটিএমসি, চিনিকল সংস্থার শীর্ষ পদে যাঁরা আসেন, তঁাদের বেশির ভাগেরই শিল্পকারখানা পরিচালনার ন্যূনতম জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নেই।

এ ছাড়া দুর্নীতি, অপচয় তো আছেই। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের আচরণ বড় অদ্ভুত। সরকারের মন্ত্রী-আমলারা ফি বছর পাট দিবসে পাটের গুণগান করেন, সোনালি আঁশের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আওয়াজ তোলেন, কিন্তু পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেন না। পাটের বিকল্প প্লাস্টিক ও পলিথিনের
মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কেবল পরিবেশকেই দূষিত করছে না, জনজীবনকেই করে তুলেছে বিপর্যস্ত।

বিএনপি বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যখন রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, আওয়ামী লীগ তখন বিরোধিতা করেছিল। ক্ষমতায় এসে তাঁরাও পূর্বসূরিদের পথে হাঁটছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি কিনলেই রাষ্ট্রায়ত্ত পাট ও চিনিকলগুলো লাভজনক করা সম্ভব।

স্বাধীনতার পর থেকে পাটকল, চিনিকলসহ দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোতে কেন হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান হলো, সে সম্পর্কে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। যারা জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সবার আগে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করুন। এই দুর্মূল্যের বাজারে মজুরি পেয়েই যখন শ্রমিকদের চলা কঠিন, সেখানে বকেয়া মজুরি না পেলে পরিবার–পরিজন নিয়ে তঁাদের না খেয়েই থাকতে হবে।

 

For Advertisement

পূর্বাকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: