ADS
হেডলাইন
◈ সিয়াম-পূজার ‘শান’ এবার প্যারিসে ◈ দোনবাসে ৪০ শহরে গোলাবর্ষণ করেছে রাশিয়া ◈ বান্দরবানে পর্যটকবাহী গাড়ি খাদে পড়ে নিহত ১, আহত ৮ ◈ যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে গুলি, ১৯ শিক্ষার্থীসহ নিহত ২১ ◈ ইউক্রেনকে ৫৩৫ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ◈ মেক্সিকোতে বার-হোটেলে বন্দুক হামলায় নিহত ১১ ◈ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন আজ! ◈ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ ট্রাস্টি কারাগারে ◈ পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে চাই: জেলেনস্কি ◈ শ্রমিকেরা কেন বকেয়া মজুরি পাবেন না ◈ টসে জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, মোসাদ্দেকের ফেরা ◈ রাবিতে স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৫ জুলাই ◈ দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক ◈ পুলিশের কাজে বাধা: ছাত্রদলের দুই নেতার জামিন মেলেনি! ◈ মাছ চাষে সাফল্য, বদলে গেছে পুরো গ্রাম ◈ পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রীকে মারধরের পর গ্রেপ্তারের অভিযোগ ◈ নিবার্চনী প্রচারণায় অংশ না নিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নির্দেশ ◈ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলেই গ্রেফতার করা যাবে না: আইনমন্ত্রী ◈ চকরিয়ায় যুগ্ম সচিবের গাড়ির ধাক্কায় পথচারী নিহত ◈ একদিনের ব্যবধানে জাল স্ট্যাম্প বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার আরও চার
হোম / মুখোমুখি / বিস্তারিত

For Advertisement

রাজনীতির কারণে ১৬ বছর যাবত পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছাত্রদল সভাপতি শ্রাবন!

১৮ এপ্রিল ২০২২, ৮:৪৫:০১

“আমার বাবা একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা। বিগত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে বিদ্রোহ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আমার পরিবারের অন্য ভাইয়েরাও আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি চাইলে হয়তো বিসিএস দিয়ে সরকারী চাকুরী বা পরিবারের পরিচয় দিয়ে ছাত্রলীগ করে বড় নেতা অথবা জেল-জুলুমের জীবন বেছে না নিয়ে বিলাসিতার জীবন বেছে নিতে পারতাম । কিন্তু আওয়ামী আদর্শ আমাকে কখনো টানেনি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির প্রতি আকর্ষণ বোধ করি।

আমার বিবেচেনায় মনে হয়েছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শই সর্বশ্রেষ্ঠ। তাই সেই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি আমার পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে পদদলিত করে এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আর্দশকে বুকে ধারণ করে নেই। আমি জানতাম আমার এই পরিবারের কারনে নেতৃত্ব গ্রহণের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই শহীদ জিয়ার আদর্শকে ভালবেসে দল ও দেশের জন্য আজ অবধি কাজ করে যাচ্ছি।

আজ আমি আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হিসেবে আমার বিবেক, বুদ্ধি ও আদর্শ বোধ থেকে আমি কি বাবার আদর্শের বিরুদ্ধে যেতে পারি না? যদি তাই না হতো তাহলে ১৯৭১ সালের পর থেকে আওয়ামী আদর্শের বাইরে আর কোন দল গড়ে উঠতো না। কিন্তু বিএনপি কেন গড়ে উঠেছে? কারণ হচ্ছে, এই মানুষগুলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামকে লালন করে বলেই বিএনপি আজ সংখ্যাগরষ্ঠি মানুষের প্রিয় দল। বিএনপির এই আদর্শকে ধারণ করার কারনে ১৬ টি বছর ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন আছি। এই বিএনপি, এই ছাত্রদলই আজ আমার পরিবার।”
কথাগুলো বলছিলেন ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ।

অথচ আওয়ামী পরিবারের সন্তান হওয়ায় তার সাথে পরিবারের সম্পর্ক নেই দীর্ঘ ১৬ বছর। ছাত্রদল করার অপরাধে বাবা সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন তার সাথে। এখন পরিবার থেকে দূরে আছেন তিনি। শ্রাবণ দীর্ঘদিন বাড়িতে যান না। এমনকি পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানেও অংশ নেন না তিনি।

উল্লেখ্য যে- আওয়ামী পরিবারের সন্তান ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে। এ বিষয়ে দৈনিক পূর্বাকাশ কে শ্রাবণ জানান, তিনি কলেজ জীবন থেকেই সচেতনভাবে ছাত্রদলের রাজনীতি করেন। পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ করলেও তিনি কখনোই ছাত্রলীগ করেননি। এজন্য তাকে পরিবার ছাড়তে হয়েছে। তাতেও দু:খ নেই তার। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সচেতন ছাত্র হিসেবে ছাত্রদলের আদর্শকে আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি ও ভালোবাসি। সেই সাথে প্রতিটি মানুষের স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার থাকা উচিৎ।

শ্রাবণের বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলায়। শ্রাবণের বাবা কাজী রফিকুল ইসলাম স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান তিনি।স্থানীয় সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলামের বড় ছেলে কাজী মুস্তাফিজুর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। মেজো ছেলে কাজী মুজাহিদুল ইসলাম পান্না উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক। সেজো ছেলে কাজী আজাহারুল ইসলাম মানিক উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান আহ্বায়ক। অর্থাৎ তারা পুরোটাই আওয়ামী পরিবার।কিন্তু ছোট ছেলে কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ পারিবারিক ঐতিহ্যের বাইরে গিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। আজ শ্রাবণ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

শ্রাবণের বড় ভাই কাজী মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত জানান, তিনি শুনেছেন তার ভাই ছাত্রদলের সভাপতি হয়েছেন। তবে শ্রাবণের সঙ্গে তাদের পরিবারের কারও কোনো সম্পর্ক নেই। ১৬ বছর শ্রাবণ বাড়িতে আসেন না এবং যোগাযোগও নেই।এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার রুহুল আমিন বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও শ্রাবণ ছাত্রকাল থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এতে দোষের কিছু নেই। শ্রাবণ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে, এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের দলে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আছে বলে মনে হয় না।

রোববার (১৭ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে শ্রাবণের সভাপতি হওয়ার বিষয়টি।

২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ। সেই সময় আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী হওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ওই সম্মেলনে ভোটে হেরে তিনি সিনিয়র সহসভাপতি মনোনীত হন।

কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ ২০০৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি। তখন থেকেই বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায় তার।পরিবারের সবাই অনেক চেষ্টা করেও ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে তাকে ফেরাতে পারেনি। এ বিষয়ে এর আগে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ জানিয়েছেন, কেশবপুর কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি এবং আজন্ম জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে কাজ করে যেতে চান।

For Advertisement

পূর্বাকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: