ADS
হেডলাইন
◈ ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আইনজীবী পরিবার’ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যাত্রা শুরু! ◈ বিজয় দিবসে দেশবাসীকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী! ◈ পরিচালক মাহমুদ মাহিনের সেপারেশন- ইউটিউবে ঝড়! ◈ ফৌজদারি মামলা পরিচালনার ক্ষমতা হারালেন বিচারক কামরুন্নাহার! ◈ নিপীড়িত মানুষের মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী! ◈ তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকৃতিবিরোধী প্রকল্প! ◈ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ নিউজিল্যান্ডের- চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া! ◈ ফ্যাশন, আধুনিকতা ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশে – নারীর প্রধান পছন্দ গহনা! ◈ নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারককে সাময়িক প্রত্যাহার! ◈ খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার পরামর্শ! ◈ বিচারকের অনন্য উদ্যোগ- ঠিকানাহীন ১১ শিশু মায়ের কোলে! ◈ সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা! ◈ শরীরচর্চা : বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন! ◈ খেলতে গিয়ে বালতিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু! ◈ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগী দিতে ডা. মুরাদের অনুরোধ ◈ ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশ দ্বিতীয়: রাষ্ট্রপতি ◈ ইমরান খানকে ডেকে ভর্ৎসনা করলেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট! ◈ আজ ৮৩৫টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ চলছে! ◈ এই শীতে সৌন্দর্য ধরে রাখার গোপন কৌশল! ◈ অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কার এখন সময়ের দাবি: অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী

For Advertisement

হলমার্কের ২৫০ কোটি টাকা- সোনালী ব্যাংকে পড়ে আছে ১০ বছর !

৩০ অক্টোবর ২০২১, ১০:৫৩:১১

আলোচিত হলমার্ক গ্রুপের ২৫০ কোটি টাকা দশ বছর ধরে পড়ে আছে জনতা, মার্কেন্টাইলসহ ১০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে। ওই টাকা নিয়ে সোনালী ব্যাংকের পাওনা সমন্বয় করতে বলেছে হলমার্ক। কিন্তু আইনি জটিলতায় সেই টাকা নিতে পারেনি সোনালী ব্যাংক। হলমার্ক ও একাধিক ব্যাংক সূত্রে এই খবর জানা গেছে।

হলমার্কের কাছে সোনালী ব্যাংকের বর্তমান পাওনা ২ হাজার ৫১৩ কোটি ২ লাখ টাকা। ওই ২৫০ কোটি টাকা আদায় হলে পাওনার পরিমাণ দাঁড়াবে ২ হাজার ২৬৩ কোটি ২ লাখ টাকা। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তানভীর কারাগারে থাকায় বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা ওই আড়াইশ কোটি টাকা স্থানান্তর আটকে আছে। একই কারণে সোনালী ব্যাংকে জামানত হিসাবে থাকা হলমার্কের ১৩৭.৪৬ একর জমিও বিক্রি করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। জমিগুলো বিক্রি করা গেলে হলমার্কের সব দেনা পরিশোধ করা সম্ভব।সোনালী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আতাউর রহমান প্রধান সমকালকে বলেন, শুধু জনতা ব্যাংকেই হলমার্কের ৮৩ কোটি টাকা জমা আছে। এই টাকা হলমার্ক সোনালী ব্যাংককে দিতে চেয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।

সোনালী ব্যাংকের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, হলমার্কের ৮৩ কোটি টাকা জনতা ব্যাংকে জমা আছে। এই টাকা জনতা ব্যাংক থেকে এনে সোনালী ব্যাংকের পাওনা সমন্বয় করার কথা বলে হলমার্কের আইন কর্মকর্তা মো. বাবুল ইসলাম সোনালী ব্যাংকের এমডিকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে জনতা ব্যাংকে রাখা ওই টাকা সোনালী ব্যাংকের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল (সাবেক শেরাটন শাখা) শাখায় জমা করে পাওনা সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে। হলমার্কের ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জনতা ব্যাংকে কয়েক দফায় চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু জনতা ব্যাংক সোনালী ব্যাংককে টাকা দেয়নি। টাকা না দেওয়ার বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যাও দেয়নি।জনতা ব্যাংক ভবন করপোরেট শাখার মহাব্যবস্থাপক মো. মাহফুজুর রহমান পূর্বাকাশকে বলেন, হলমার্কের টাকা সোনালী ব্যাংককে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ কিছু আইনি জটিলতা আছে। এই টাকার মালিক হলমার্ক গ্রুপ। গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদের অনুমতি ও তার স্বাক্ষর করা চিঠি ছাড়া এই টাকা প্রদান করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তানভীর মাহমুদ তাদের কোনো কর্মকর্তাকে দালিলিকভাবে ক্ষমতা প্রদান করলে টাকা প্রদান করা সম্ভব হবে।

সোনালী ব্যাংক সূত্র জানায়, দশ বছর আগে হলমার্ক জনতা ব্যাংক ভবন করপোরেট শাখায় ৮৩ কোটি, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মিরপুর শাখায় ২০ কোটি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, এইচএসবিসি, ঢাকা, ইসলামী, মার্কেন্টাইল, ন্যাশনাল, ইস্টার্ন, ব্র্যাক, জনতা ও সিটি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ২২ কোটি ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৭৫২ টাকাসহ মোট ১২৫ কোটি ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৭৫২ টাকা জমা রেখেছিল। দশ বছরে তা সুদ-আসলে ২৫০ কোটির বেশি হয়েছে।

সূত্র জানায়, সুদ-আসলের পুরো টাকা ওইসব ব্যাংক থেকে সোনালী ব্যাংকের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল (সাবেক শেরাটন শাখা) শাখার হিসাবে আনার জন্য সোনালী ব্যাংককে চিঠি দিয়েছেন হলমার্ক গ্রুপের আইন কর্মকর্তা মো. বাবুল ইসলাম। চিঠিতে তিনি নিজেকে তানভীর মাহমুদ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত বলে দাবি করেছেন। তবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হওয়া সংক্রান্ত আইনসংগত কোনো নথি সোনালী ব্যাংককে দেননি।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ব্যাংকে হলমার্কের রাখা টাকার একমাত্র মালিক তানভীরই। সোনালী ব্যাংককে এই টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে তানভীরের উপস্থিতি, অনুমতি বা তার নিজের স্বাক্ষর অত্যাবশ্যকীয়। এর বিকল্প হিসেবে তানভীর জেলারের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় হলমার্ক গ্রুপের কোনো পরিচালক বা উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তাকে ক্ষমতা প্রদান করলে সেটা ব্যাংকগুলো আমলে নেবে। সে ক্ষেত্রে ক্ষমতা প্রদানের নথিপত্র ব্যাংকগুলোতে জমা দিতে হবে। পরে ওই নথি ব্যাংকগুলোর আইন শাখার মাধ্যমে যাচাই করা হবে। যাচাইয়ে ওই নথি সঠিক প্রমাণিত হলে ব্যাংকগুলো হলমার্কের টাকা সোনালী ব্যাংককে দিতে পারবে।

সূত্র জানায়, জনতা, মার্কেন্টাইল, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, এইচএসবিসি, ঢাকা, ইসলামী, মার্কেন্টাইল, ন্যাশনাল, ইস্টার্ন, ব্র্যাক ও সিটিসহ দশটি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ৫৮টি হিসাবে ২২ কোটি ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৭৫২ টাকা হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের নামে জমা আছে। ওইসব হিসাব থেকে সমুদয় টাকা এনে পাওনা সমন্বয় করতে বলা হয়েছে হলমার্ক গ্রুপের পক্ষ থেকে। জেসমিন ইসলামও বর্তমানে কারাগারে।

হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ফান্ডেড ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদ, তার স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়রম্যান জেসমিন ইসলামসহ ২৭ জনকে আসামি করে ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর ১১টি মামলা করে দুদক। সোনালী ব্যাংকের কাছে হলমার্কের দায় (সুদসহ) ছিল মোট ২,৯৬৯.৬৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪৫৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা আদায় হওয়ায় বর্তমান পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২,৫১৩.০২ লাখ টাকা।

For Advertisement

পূর্বাকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: