ADS
হেডলাইন
◈ দারিদ্র্যের কষাঘাতে বিপর্যস্ত বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা! ◈ বিশ্ব জাতিসংঘ দিবস আজ! ◈ এসকে সিনহাসহ ১১ জনের মামলার রায় কাল! ◈ আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ◈ বেগমগঞ্জে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ মিছিল, ফেনীতে সংঘর্ষ! ◈ সরকার কোন দুঃখে এসব করতে যাবে: ওবায়দুল কাদের ◈ ব্রিটিশ এমপি হত্যা: ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন জনসন ◈ দেশ বিক্রি করে তো ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী ◈ দুর্গাপূজা: ইতিহাস ও শিক্ষা ◈ নির্বাচন কমিশন: সার্চ কমিটি বিশ্বস্ত হতে হবে আগে! ◈ খালেদার সুস্থতা কামনায় দেশব্যাপী দোয়া কর্মসূচি ◈ বিএনপি কখনো সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেয় না: ফখরুল ◈ আমরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি: ডিএমপি কমিশনার ◈ কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ◈ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল ◈ ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২১১, মৃত্যু ২! ◈ অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধ ঠেকাতে হাইকোর্টে দুই আবেদন! ◈ বাবরের অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলার রায় আজ! ◈ আজ মহাসপ্তমী! ◈ ঋণখেলাপি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ!

For Advertisement

সাউথইস্ট ব্যাংক চেয়ারম্যানের ‘হরিলুট’র অভিযোগ তুলে গভর্নরকে চিঠি

২ আগস্ট ২০২১, ১১:৩৩:৫২

বেসরকারি খাতের সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান আলমগীর কবিরের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন ব্যাংকের পাঁচ পরিচালক। তার ‘স্বেচ্ছাচারিতা, হরিলুট, জালিয়াতি, ব্যাপক দুর্নীতি এবং বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার’র হাত থেকে ব্যাংকটি রক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ওই পরিচালকরা। তাদের দাবি, সৌদি আরব প্রবাসী আলমগীর ছিলেন ব্যাংকটির সাধারণ শেয়ার হোল্ডার। সময়ের ব্যবধানে সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান বনে গেছেন তিনি। ধীরে ধীরে ছেলে রাইয়ান কবিরসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি চক্র, যার মাধ্যমে বেসরকারি খাতের ব্যাংকটিকে লুটেপুটে খাচ্ছেন।

গত ২৬ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের কাছে এ আবেদন সংক্রান্ত চিঠি জমা দেন পাঁচ পরিচালক। এরা হলেন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক এম এ কাশেম, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আজিম উদ্দীন আহমেদ, দুলুমা আহমেদ, রেহানা রহমান এবং জ্যোৎস্না আরা কাশেম। লিখিত আবেদনে ব্যাংকের দীর্ঘদিনের সুনাম ও হাজার হাজার গ্রাহকের আমানত রক্ষায় নিরপেক্ষ তদন্তেরও আহ্বান জানান তারা।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘জালিয়াতি, দুর্নীতি ও কারসাজির মাধ্যমে সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন। তিনি কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং দুবাইতে অর্থপাচার করেছেন। পাচার করা অর্থে এসব দেশের অভিজাত এলাকায় গড়ে তুলেছেন বাড়ি। দুবাইতে আছে বিলাসবহুল হোটেল ও বার। রাজধানী ঢাকার গুলশানে তিনটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ছাড়াও রয়েছে ব্যক্তিগত অফিস। গাজীপুরে বাড়ি ছাড়াও শ্ৰীপুর, ভাওয়াল এবং কাঁচপুরে অন্তত ১৫০ বিঘা জমি কিনেছেন। ব্যাংকে করেছেন স্বজনপ্রীতি, শাখাগুলোতে ফার্নিচার কিনতে পছন্দের কোম্পানি (জার্নিম্যান) নিয়োগ করেছেন। যেখানে প্রতিটি চেয়ারের দাম রাখা হয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা, কম্পিউটার টেবিলের দাম ধরা হয়েছে ৬২ হাজার টাকা। এভাবেই নিজের ভাগনের কোম্পানির মাধ্যমে ফার্নিচার কেনার নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, নামে-বেনামে তার রয়েছে আরও একাধিক বাড়ি-ফ্ল্যাট ও প্লট। জার্নিম্যান নামে ওই ফার্নিচার কোম্পানির এক কোটি টাকা সুদও মওকুফ করেছেন তিনি।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘২০০৪ সালের আগ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে উদ্যোক্তা-পরিচালকরা ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। কিন্তু ২০০৪ সালে আলমগীর কবিরের চেয়ারম্যান পদে বসার পর টানা ১৭ বছর চলছে। এরপর আর কেউ ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হতে পারেননি। ট্রেজারি শাখায় বসিয়েছেন নিজের সন্তানকে।’ চিঠিতে পাঁচ পরিচালক বলেছেন, ‘বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ছেলেকেও পরিচালক বানিয়েছেন আলমগীর কবির। তার এসব অপকর্মের অন্যতম সহযোগী হলেন ব্যাংকটির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়ারেস-উল-মতিন।

১৯৯৫ সালে দেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের (সেকেন্ড জেনারেশন) বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে সাউথইস্ট ব্যাংকের যাত্রা শুরু। ২০০৪ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে অন্য উদ্যোক্তা-পরিচালকরা নিয়মিতভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০২ সালে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হন আলমগীর কবির। তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকের উদ্যোক্তাও ছিলেন না। ২০০৪ সালে তিনি চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব নেন এবং টানা ১৭ বছর এ পদে আসীন।

পাঁচ পরিচালকের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আলমগীর কবিরের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করা নিয়ে উদ্যোক্তা-পরিচালক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। চেয়ারম্যান হিসেবে আলমগীর কবিরের একক নিয়ন্ত্রণ, একচ্ছত্র আধিপত্য এবং কর্তৃত্ব নিয়ে অন্য পরিচালকরা আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। তাতেও কাজ না হওয়ায় অন্য পরিচালকরা হতাশ হয়ে পড়েন। সভায় উপস্থিত না হওয়াই নিয়মে পরিণত হয় অনেক পরিচালকের। এ সুযোগে আলমগীর কবিরের অনিয়মের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

গভর্নরকে দেয়া চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘ব্যাংকটিতে এখন নিয়ম বলতে কিছু নেই। নিজস্ব লোকদের ঋণ দেয়া, চলতি ঋণের সুদ মওকুফ করে দেয়া, যাকে-তাকে ঋণ দেয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অন্য সব পরিচালকের পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন অযোগ্য প্রতিষ্ঠানের ঋণ অনুমোদন করেন। বিশেষ সুবিধা নেয়ার মাধ্যমে এ ঋণ দেন। অন্যসব শেয়ারহাল্ডার, পরিচালকদের পরিচালক হিসেবেই গণ্য না করার স্বৈরাচারী মনমানসিকতা তৈরি হয়েছে তার মধ্যে।’

‘সাউথইস্ট ব্যাংকে বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ক্যাপিটাল লিমিটেডের ২১০ কোটি টাকা ঋণ থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকটির পরিচালক হন আলমগীর কবির নিয়ন্ত্রিত বে-লিজিংয়ের মনিরুজ্জামান। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এ তথ্য গোপন রাখা হয়। ফলে ২০২০ সালে এনওসি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এখানেই দুর্নীতির শেষ নয়। পরিচালক হিসেবে ব্যাংকের দুই দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার অর্থাৎ প্রায় ২৭ কোটি টাকার মালিকানা বুঝে পায় বে- লিজিং। আইন অনুযায়ী এ মালিকানার বিপরীতে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার অনুমতি রয়েছে। অথচ বে-লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বর্তমানে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে ৪০০ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা ভোগ করছে। সাউথইস্ট ব্যাংকের কলমানি থেকে ঋণ পাওয়া একমাত্র প্রতিষ্ঠানের নামও বে-লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আলমগীর কবিরের নিকটাত্মীয়ের (বেয়াই) মালিকানাধীন লুব-রেফ বাংলাদেশ লিমিটেডকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ৫৪ কোটি টাকার অধিক সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। কমিশন সুবিধা নিয়ে এক হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের অভিযোগও রয়েছে আলমগীর কবিরের বিরুদ্ধে। যেসব ঋণের বিপরীতে পাঁচ বছর কোনো সুদ দিতে হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে জাজ ভূঁইয়া গ্রুপ (৩০০ কোটি), সুয়াদ গার্মেন্টসের ১৫ কোটি, ফাহমি নিটের ৩০০ কোটি, সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট অতিক্রম করে কেয়া গ্রুপের ৯০০ কোটি এবং মাহাবুব স্পিনিংয়ের ১৫০ কোটি টাকা উল্লেখযোগ্য।’

ব্যাংকের পাঁচ পরিচালক চিঠিতে উল্লেখ করেন, ‘সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলমগীর কবির গ্রাহকদের মধ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেন; যেগুলোর বিপরীতে পাঁচ বছরে কোনো প্রকার সুদ না দেয়ার সুবিধা দিয়েছেন তিনি। তারপরও ক্লায়েন্টের ঋণের টাকা তাদের ‘সুদমুক্ত ব্লকড অ্যাকাউন্ট’-এ দিয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে- জাজ ভূঁইয়ার ৩০০ কোটি টাকা, সুয়াদ গার্মেন্টসের ১৫ কোটি, ফাহমি নিটের ৩০০ কোটি, কেয়া গ্রুপের ৯০০ কোটি, মাহাবুব স্পিনিংয়ের ১৫০ কোটি টাকার ঋণ।’ কারসাজির মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে শত কোট টাকা কমিশন নেয়ার অভিযোগও তোলেন তারা।

‘সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে থাকা অবস্থায় তিনি ব্যাংকের অর্থে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বে-লিজিং এবং এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের বিপুল পরিমাণ শেয়ার ক্রয় করে এসব প্রতিষ্ঠানে কোথাও পরিচালক আবার কোথাও উপদেষ্টার পদ নিয়ে তৈরি করেছেন একটি চক্র। যার প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে তিনি ব্যাপক লাভবান হয়েছেন আর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাংক। এমনকি এই দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে অনৈতিকভাবে মোটা অঙ্কের ঋণও দিয়েছেন তিনি।’ নিরপেক্ষ কোনো তদন্তে আলমগীর কবিরের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলেও চিঠিতে অভিযোগে করা হয়।

পাঁচ পরিচালকের অভিযোগ, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যাকে তাকে ঋণ দেয়ার জন্য আগেও সমালোচনায় এসেছেন আলমগীর কবির। ব্যক্তিস্বার্থে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেন তিনি। যার কারণে অযোগ্য হয়েও ব্যাংকটি থেকে গোপাল আগরওয়ালা ও তার স্ত্রী দীপা আগরওয়ালা ১১৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ভারতে পালিয়েছেন। উভয়ই সাউথইস্ট ব্যাংকের নওগাঁ শাখার গ্রাহক ছিলেন। এই জালিয়াতিতে আলমগীর কবিরের হাত রয়েছে। তিনি মূলত আগারওয়ালা দম্পতিকে কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভারতে পাচার করেছেন। কলকাতা এবং চেন্নাইতে তার একাধিক বাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় জমিজমাও রয়েছে। গোপাল আগারওয়ালা বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জগন্নাথ নগরে জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে অটোরাইস মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। দীপা আগারওয়ালা একই স্থানে ‘মেসার্স শুভ ফিড প্রসেসিং’ নামের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘এক প্রতিষ্ঠানকে বিলাসবহুল গাড়ি কেনার জন্য চার বছর মেয়াদি দুই কোটি ৬০ লাখ টাকা গাড়ির ঋণ দেয়া হয়েছে, যা উৎপাদনশীল খাতে না দিয়ে অনুৎপাদনশীল খাতে দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের গুলশান শাখার দুই গ্রাহকের ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ডের বিল দেয়া হয়েছে রফতানি প্রত্যাবাসন কোটা (ইআরকিউ) অ্যাকাউন্টের অর্থ থেকে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পরিপন্থী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্রণোদনার অর্থ নয়ছয় করেছেন আলমগীর কবির। তদন্ত করলে ব্যাংকের বিনিয়োগ, ঋণ ও অগ্রিম, স্থায়ী সম্পদ ও অন্যান্য সম্পদের হিসাবে গরমিল পাওয়া যাবে। ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন বুকস অব অ্যাকাউন্টস ও সংশ্লিষ্ট নথি, রেকর্ড পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে হবে। ব্যাংকটির কিছু শাখা পরিদর্শন করলে আরও খারাপ তথ্য পাওয়া যাবে।’

‘এছাড়া এক প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের গত মে মাসের বেতন দেয়ার সময় একই ফোন নাম্বারে এপ্রিল মাসে সাত হাজার ৯১৬ টাকা বেতন দেয়া হলেও মে মাসে দেয়া হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৭৬ টাকা, যা প্রাপ্ত বেতনের চেয়ে ২৬ হাজার ৭৬০ টাকা বেশি। ছয় মাসে ৪৭ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের অনেকের ব্যক্তিগত তথ্য হালনাগাদ করা হয়নি। অভিজ্ঞ কর্মকর্তা যারা অন্য ব্যাংক থেকে এসেছেন, তাদের অনেকের ছাড়পত্র ব্যক্তিগত ফাইলে নেই।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বরাবর পাঠানো চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সাউথইস্ট ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর কবির মূলত সৌদিপ্রবাসী ছিলেন। জালালুর রহমান নামে এক পরিচালকের কাছ থেকে স্পন্সর শেয়ার কেনেন তিনি। এরপর শুরু হয় আলমগীর কবিরের জালিয়াতি। তার ছেলে রাইয়ান কবির ২০০৩ সালে সাউথইস্ট ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগে চাকরিতে নিযুক্ত হন। সেই ছেলেকেও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে পরিচালক বানিয়েছেন আলমগীর কবির। তার এসব অপকর্মের অন্যতম সহযোগী হলেন ব্যাংকটির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়ারেস-উল-মতিন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক এম এ কাশেম বলেন, ‘দেশের দ্বিতীয়সারির ব্যাংক এটি। সুনামের সঙ্গে ব্যাংকিংসেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানকে আমরা ধ্বংস হতে দিতে পারি না। আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বরাবর অভিযোগের বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

এ নিয়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আলমগীর কবিরের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

For Advertisement

পূর্বাকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: