ADS
হেডলাইন
◈ সরকার কোন দুঃখে এসব করতে যাবে: ওবায়দুল কাদের ◈ ব্রিটিশ এমপি হত্যা: ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন জনসন ◈ দেশ বিক্রি করে তো ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী ◈ দুর্গাপূজা: ইতিহাস ও শিক্ষা ◈ নির্বাচন কমিশন: সার্চ কমিটি বিশ্বস্ত হতে হবে আগে! ◈ খালেদার সুস্থতা কামনায় দেশব্যাপী দোয়া কর্মসূচি ◈ বিএনপি কখনো সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেয় না: ফখরুল ◈ আমরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি: ডিএমপি কমিশনার ◈ কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ◈ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল ◈ ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২১১, মৃত্যু ২! ◈ অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধ ঠেকাতে হাইকোর্টে দুই আবেদন! ◈ বাবরের অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলার রায় আজ! ◈ আজ মহাসপ্তমী! ◈ ঋণখেলাপি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ! ◈ হালের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় একজন – ফারজানা রিক্তা! ◈ কাজল কালো চোখটি তোমার! ◈ সড়ক দুর্ঘটনায় মুহাম্মদ (সা.) -এর ব্যাঙ্গাত্মক চিত্র আঁকা কার্টুনিস্টের মৃত্যু! ◈ শুরু হচ্ছে বিশ্ব মৃদু হাসি প্রতিযোগিতা! ◈ চবিতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ!

For Advertisement

পেশা হিসেবে মার্চেন্ডাইজিং- বাস্তবতা ও সম্ভাবনা!

২৭ জুন ২০২১, ১১:৫৪:৩৬

ক্যারিয়ার জীবনে পেশা নির্বাচন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে সফল হওয়া কিছুটা কঠিন। তাই এমন একটি পেশা নির্বাচন করা উচিত যার চাহিদার পাশাপাশি নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ আছে।

বর্তমানে আমাদের দেশের প্রধান রফতানি খাতই হল গার্মেন্ট অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং। দেশের মোট রফতানি আয়ের অধিকাংশই এ খাত থেকে আসছে। বিশাল এ সেক্টরে প্রচুর দক্ষ লোকবল প্রয়োজন পড়ছে। সেই তুলনায় কোম্পানির মালিকরা লোকবল পাচ্ছেন না। এ সেক্টরে যেমন প্রয়োজন হচ্ছে সাধারণ শ্রমিক, তেমনি প্রয়োজন দক্ষ ও শিক্ষিত লোকবল- যারা প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে কাজ করবেন। শুধু বাংলাদেশে নয়, বর্তমান বিশ্ববাজারে পোশাকশিল্পের বিপুল চাহিদার কারণে অন্যসব পেশার চেয়ে মার্চেন্ডাইজিং পেশায় চাকরি পাওয়া অনেকটা সহজ। এছাড়া মার্চেন্ডাইজিংয়ে চাকরির বিশাল ক্ষেত্র রয়েছে বাংলাদেশে।

এ দেশে প্রায় ১১ হাজারের মতো গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি রয়েছে। এছাড়া পাঁচ হাজার বায়িং হাউস এবং ফ্যাশন ও বুটিক হাউস তো রয়েছেই। তাই মার্চেন্ডাইজিং পেশা হিসেবে বেশ উজ্জ্বল। তৈরি পোশাকশিল্প কারখানায় একজন মার্চেন্ডাইজারের গুরুত্ব অনেক বেশি। মার্চেন্ডাইজিংয়ে দক্ষ জনবলের অভাব এখনও আছে এ দেশে। ফলে এ পেশায় কাজের সুযোগ অনেক বেশি।

শুধু দেশে নয়, বর্তমান বিশ্ববাজারে পোশাকশিল্পের বিপুল চাহিদার কারণে অন্যসব পেশার চেয়ে এতে চাকরি পাওয়াটা বেশ সহজও বটে। একেকটি পোশাকশিল্প এবং বায়িং হাউসে প্রচুর দক্ষ লোক নিয়োগ করা হয়। বস্ত্র কারখানা, বিভিন্ন বায়িং অফিস, ফ্যাশন হাউস, তৈরি পোশাকশিল্প ও টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে সরাসরি কাজ করার সুযোগ রয়েছে মার্চেন্ডাইজারদের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব পেশাদারের উচ্চ বেতনসম্পন্ন কর্মসংস্থান সুবিধা রয়েছে। বেতনের শুরুটা ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় হলেও অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন মার্চেন্ডাইজারের বেতন এক থেকে দেড় বছরে বেতনের অঙ্ক লাখের কোঠায় নিয়ে যেতে পারে। তাছাড়া চার থেকে ছয় বছরের মধ্যে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ বেতন প্রায় দুই থেকে তিন লাখে পৌঁছে যায়। এক্ষেত্রে একজন মার্চেন্ডাইজারের ইংরেজি জ্ঞান ও যোগাযোগের ওপর নির্ভর করে তার কাজের দক্ষতা।

বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে মার্চেন্ডাইজিং পেশাকে কিভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে  নাসা গ্রুপে কর্মরত সিনিয়ার মার্চেন্ডাইজার আবুল ফজল রোমেল  দৈনিক পূর্বাকাশকে বলেন, 'বাংলাদেশের শিল্প খাতে পোশাকশিল্প সর্ববৃহৎ রফতানি খাত। দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। এই শিল্পের গুরুত্ব এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মী-কর্মকর্তাদের দক্ষতা যোগ্যতার ওপর-ই এই শিল্পের ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাবনা নির্ভরশীল। এই শিল্পে বিপণন, উৎপাদন এবং কমার্শিয়াল এই তিনটি বিভাগের ওপর মূল দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে। মূলত একজন বিপণন কর্মীই এই শিল্পে মার্চেন্ডাইজার হিসেবে পরিচিত। একজন মার্চেন্ডাইজার তার কোম্পানির পক্ষ থেকে বিদেশি ক্রেতা অনুসন্ধান, ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী তথ্য আদান-প্রদান, চুক্তি অনুযায়ী সঠিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন নিশ্চিতকরণ এবং যথাযথ সময়ে রফতানির মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতার অধিকার সংরক্ষণই থাকে প্রধান দায়িত্ব। এই কর্মকাণ্ডের মধ্যে ও তাকে নতুন নতুন ডিজাইন/প্যাটার্ন উদ্ভাবন, ব্যতিক্রমী কাঁচামালের ব্যবহারের উপযোগিতা তৈরি, ফ্যাশন সচেতনতা এবং প্রতিযোগিতাশীল মার্কেটে Competitive price নিশ্চিত করেন ও তাকে সচেতন ও অনুসন্ধানী হতে হয়। প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে মার্চেন্ডাইজার পেশা অবশ্যই একটি চ্যালেঞ্জিং এবং আকর্ষণীয় চাকরি ।বাংলাদেশে বর্তমানে মোট পোশাকশিল্পের সংখ্যা, দেশি-বিদেশি বায়িং হাউজসহ বিভিন্ন Fabrib ও Accessories কোম্পানিতে একজন মার্চেন্ডাইজারের জন্য চাকরির চাহিদা অনেক প্রসারিত। আগ্রহী যে কোন গ্রাজুয়েট এই পেশায় তার নিজের ক্যারিয়ার গঠনে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বাংলাদেশের অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মার্চেন্ডাইজিং পেশার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, অধ্যয়নরত অবস্থায় ও একজন শিক্ষার্থী কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারেন। অন্য যে কোনো বিষয় থেকে পাস করেও যে কেউ এ পেশায় আসতে পারেন। তবে তাকে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টের প্রাথমিক ও কারিগরি জ্ঞান অর্জনের জন্য অবশ্যই সরাসরি ফ্যাক্টরিতে কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহন করতে হবে। এই পেশায় দক্ষ ও যোগ্য করে নিজেকে গড়ার জন্য পরিশ্রম ও নিয়মানুবর্তিতা হল মূল শক্তি। পাশাপাশি ইংরেজিতেও পারদর্শী হতে হবে তার বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য।'

একজন দক্ষ মার্চেন্ডাইজারের ওপর একটি শিল্প/কোম্পানি বহুলাংশে নির্ভরশীল থাকে। তার যথাযথ দায়িত্ব ও কর্তব্যের মাধ্যমে একদিকে যেমন একটি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিস্ট শ্রমিক কর্মচারীদের মানসম্মত জীবন ব্যবস্থাপনায় সহযোগী, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এর জন্য একজন অভিজ্ঞ মার্চেন্ডাইজার ও উন্নত জীবনমান অনুযায়ী পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করে থাকেন। সর্বোপরি তার অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যৎতে তিনি চাকরি পেশা থেকে চাকরিদাতা/ব্যবসায়ী হিসেবে ও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। এক কথায়, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে মার্চেন্ডাইজিং পেশা একটি সম্মানজনক সম্ভাবনাময় পেশার নাম।

এ বিষয় জানতে চাইলে  একটি বিদেশি বায়িং কোম্পানীর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার জেমস জেরাল্ড দৈনিক পূর্বাকাশ কে বলেন, টেক্সটাইল মার্চেন্ডাইজিং সম্পর্কে আমরা অনেকেই শুনেছি। কিন্তু আমরা সঠিকভাবে জানি না যে আসলে টেক্সটাইল মার্চেন্ডাইজিং কী এবং এর কাজ কী। আসলে এটি একটি অনেক বড় একটি জায়গা যেখানে অনেক পেশার পথ খোলা রয়েছে। আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে গার্মেন্টের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশের টেক্সটাইল জগতে নিজের পেশাদার জীবন শুরু করার অনেক সুযোগ রয়েছে। একজন মার্চেন্ডাইজারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ক্রেতার কাছ থেকে অর্ডার নেয়া এবং সব কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন করে ক্রেতাকে সঠিকভাবে মাল পৌঁছে দেয়া।এ ছাড়াও একজন মার্চেন্ডাইজারকে ক্রেতার সন্তুষ্টি, আর্থিক অবস্থা এবং মার্কেট এ নিজের সুনাম এর বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। অনেকেই বলে থাকেন যে একজন ভালো মার্চেন্ডাইজার হতে হলে তাকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার বা অন্য কোনো ডিগ্রি থাকতে হবে। হ্যাঁ অবশ্যই এ যোগ্যতাগুলো আপনাকে পেশাগত জীবনে অনেক সহয়তা করবে। কিন্তু তার সঙ্গে আপনাকে হতে হবে দায়িত্বশীল, কর্মঠ এবং প্রগতিশীল।"

বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প ক্রমবর্ধমান শিল্পগুলোর একটি। আমাদের অর্থনীতির একটি বড় অংশ হয়ে আছে এ গার্মেন্ট শিল্প। রফতানি পোশাক তৈরিতে বিশ্বে দ্বিতীয় চায়নার পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। বর্তমানে প্রায় পঁয়ষট্টি শতাংশ কর্মক্ষেত্রের সুযোগ তৈরি করেছে এ গার্মেন্ট শিল্প এবং জাতীয় অর্থনৈতিক আয়ে ৮৬ শতাংশ অবদান রাখছে। অনেক ব্র্যান্ড কোম্পানি এখন বাংলাদেশে তাদের ফ্যাক্টরি খোলার চিন্তা করছে। গার্মেন্ট শিল্পের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন চাকরিরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যেহেতু গার্মেন্ট শিল্পের ব্যাপক প্রসার হচ্ছে এরই সঙ্গে ব্যাপক হারে বাড়ছে মার্চেন্ডাইজিং এ পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার নতুন সম্ভাবনা। কাজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে বেতনও নেহাত কম নয়। এ সব কারণেই বাংলাদেশে টেক্সটাইল মার্চেন্ডাইজিংয়ের পেশায় রয়েছে অপার সম্ভাবনা।

তবে নিরাশার কথা হচ্ছে এই পেশায় আসতে হলে আগ্রহী প্রার্থী কে হতে হবে অত্যন্ত পরিশ্রমী, ধৈর্যশীল ও  যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি সহ্য করবার ও টিকে থাকার অদম্য ক্ষমতা।।বিশেষত যারা প্রথম চাকুরী হিসেবে এই পেশায় আসতে চান তাদেরকে এই মানসিকতা নিয়ে আসাই বাস্তবতা বাঞ্চনীয়।

For Advertisement

পূর্বাকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: