ADS
হেডলাইন
◈ বেগমগঞ্জে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ মিছিল, ফেনীতে সংঘর্ষ! ◈ সরকার কোন দুঃখে এসব করতে যাবে: ওবায়দুল কাদের ◈ ব্রিটিশ এমপি হত্যা: ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন জনসন ◈ দেশ বিক্রি করে তো ক্ষমতায় আসবো না: প্রধানমন্ত্রী ◈ দুর্গাপূজা: ইতিহাস ও শিক্ষা ◈ নির্বাচন কমিশন: সার্চ কমিটি বিশ্বস্ত হতে হবে আগে! ◈ খালেদার সুস্থতা কামনায় দেশব্যাপী দোয়া কর্মসূচি ◈ বিএনপি কখনো সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেয় না: ফখরুল ◈ আমরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি: ডিএমপি কমিশনার ◈ কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ◈ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল ◈ ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২১১, মৃত্যু ২! ◈ অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধ ঠেকাতে হাইকোর্টে দুই আবেদন! ◈ বাবরের অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলার রায় আজ! ◈ আজ মহাসপ্তমী! ◈ ঋণখেলাপি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ! ◈ হালের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় একজন – ফারজানা রিক্তা! ◈ কাজল কালো চোখটি তোমার! ◈ সড়ক দুর্ঘটনায় মুহাম্মদ (সা.) -এর ব্যাঙ্গাত্মক চিত্র আঁকা কার্টুনিস্টের মৃত্যু! ◈ শুরু হচ্ছে বিশ্ব মৃদু হাসি প্রতিযোগিতা!
হোম / স্বাস্থ্য / বিস্তারিত

For Advertisement

পাইলস হলে করণীয় ও চিকিৎসা।

২৭ জুন ২০২১, ১১:০০:৩৬

পাইলস বা অর্শ হলো মলদ্বারে এক ধরনের রোগ যেখানে রক্তনালীগুলো বড় হয়ে গিয়ে ভাসকুলার কুশন তৈরি করে। এটি অস্বস্তিকর এবং অসহনীয় একটি সমস্যা। শিশুসহ যে কোন বয়সের লোকই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এটি মলদ্বারের ভেতরে কিংবা বাইরেও হতে পারে। পাইলস হলে চুলকানি বা রক্তক্ষরণ হয়। লজ্জায় অনেকে বিষয়টিকে দীর্ঘদিন গোপন করে রাখে। ফলে ভুল চিকিৎসার শিকার হন যা স্থায়ী সমস্যা সৃষ্টি করে। পাইলস কেন হয়, হলে কীভাবে বুঝবেন, কী করবেন, সংশ্লিষ্ট একাধিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আজ এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো।

পাইলস কেন হয়:

এর সঠিক কারণ জানা না গেলেও নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্শ হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেঃ

১. দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া

২. শাকসবজি ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার এবং পানি কম খাওয়া

৩. শরীরের অতিরিক্ত ওজন

৪. গর্ভাবস্থা

৫. লিভার সিরোসিস

৬. মল ত্যাগে বেশী চাপ দেয়া

৭. অতিরিক্ত মাত্রায় লেকজেটিভ (মল নরমকারক ওষুধ)ব্যবহার করা বা এনেমা (শক্ত মল বের করার জন্য বিশেষ তরল মিশ্রণ ব্যবহার করা) গ্রহণ করা

৮. টয়লেটে বেশী সময় ব্যয় করা

৯. বৃদ্ধ বয়স

১০. পরিবারে কারও পাইলস থাকা

১১. পায়ুপথে যৌনমিলনে অভ্যস্ততা

১২. গর্ভাবস্থার শেষের দিকে অনেকের পাইলস রোগটি দেখা দেয়। শিশুর গ্রোথের সঙ্গে মলদ্বারে চাপ পড়লে নারীর পাইলস হতে পারে।

১৩. ফ্যাটি ও হাই প্লোটিনযুক্ত খাবার যেমন : গরুর মাংস, চিজ, মাখন, ফ্রাইড, চকোলেট, আইসক্রিম, কোমল পানীয় ইত্যাদি বেশি খেলে পাইলস হতে পারে।

১৪. ভার উত্তোলন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা ইত্যাদি।

পাইলসের লক্ষণসমূহ:

i) মলদ্বারের অভ্যন্তরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারেঃ ১. পায়খানার সময় ব্যথাহীন রক্তপাত হওয়া

২. মলদ্বারের ফোলা বাইরে বের হয়ে আসতে পারে, নাও পারে। যদি বের হয় তবে তা নিজেই ভেতরে চলে যায় অথবা হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। কখনও কখনও এমনও হতে পারে যে, বাইরে বের হওয়ার পর তা আর ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না বা ভেতরে প্রবেশ করানো গেলেও তা আবার বের হয়ে আসে

৩. মলদ্বারে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা বা চুলকানি হওয়া

৪. কোন কোন ক্ষেত্রে মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।

ii) মলদ্বারের বাইরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারেঃ

১. মলদ্বারের বাইরে ফুলে যাওয়া যা হাত দিয়ে স্পর্শ ও অনুভব করা যায়।

২. কখনও কখনও রক্তপাত বা মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।

পাইলস রোগে করণীয়:

১. কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত মলত্যাগ করা

২. পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং পানি(প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস) পান করা

৩. সহনীয় মাত্রার অধিক পরিশ্রম না করা

৪. প্রতিদিন ৬-৮ ঘন্টা ঘুমানো

৫. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা

৬. টয়লেটে অধিক সময় ব্যয় না করা

৭. সহজে হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ করা

৮. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া লেকজেটিভ বেশি গ্রহণ না করা

৯. মল ত্যাগে বেশি চাপ না দেওয়া

১০. দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া থাকলে তার চিকিৎসা নেয়া।

পাইলস রোগে গ্রহণীয় কিছু খাবার:

শাকসবজি, ফলমূল, সব ধরণের ডাল, সালাদ, দধি, পনির, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, লেবু ও এ জাতীয় টক ফল, পাকা পেপে, বেল, আপেল, কমলা, খেজুর, ডিম, মাছ, মুরগীর মাংস, ভূসিযুক্ত (ঢেঁকি ছাঁটা) চাল ও আটা ইত্যাদি।

পাইলস রোগে বর্জনীয় কিছু খাবার:

খোসাহীন শস্য, গরু, খাসি ও অন্যান্য চর্বিযুক্ত খাবার, মসৃণ চাল, কলে ছাঁটা আটা, ময়দা, চা, কফি, চীজ, মাখন, চকোলেট, আইসক্রীম, কোমল পানীয়, সব ধরণের ভাজা খাবার যেমনঃ পরোটা, লুচি, চিপস ইত্যাদি।  

পাইলস চিকিৎসায় বহু ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। শতকরা নব্বই জনেরও বেশি রোগীকে বিনা অপারেশনে চিকিৎসা করা সম্ভব। তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘রাবার রিং লাইগেশন পদ্ধতি। এরপর রয়েছে ইনজেকশনের পদ্ধতি।

১৯৬৯ সালে জন মরগ্যান চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম ইনজেকশনের সাহায্যে পাইলস চিকিৎসা করেন। তিনি পারসালফেট অব আয়রন ব্যবহার করতেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইনজেকশন পদ্ধতির পাইওনিয়ার হচ্ছেন ডা. মিশেন। কিন্তু তিনি আমৃত্যু তার গোপন ওষুধের ফর্মুলাটি প্রকাশ করে যাননি। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তিনি তার গোপন ফর্মুলাটি বিক্রি করে যান। ১৯৭১ সালে শিকাগোর চিকিৎসক ডা. এন্ডুজ প্রথমবারের মতো এই গোপন ফর্মুলাটি প্রকাশ করে বলেন যে, এই ইনজেকশনে ফেনল ব্যবহার করতে হবে। এরপর ফেনলের সঙ্গে গ্লিসারিন ব্যবহার করা হয়।

সতর্কতা : পাইলস ইনজেকশন দেয়ার জন্য একই সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহার করলে তার মাধ্যমে মারাত্মক রোগ ছড়াতে পারে। যেমন হেপাটাইটিস বি-ভাইরাস যা ধীরে ধীরে লিভার ধ্বংস করে এবং এইডসের মতো ভয়াবহ রোগ ছড়াতে পারে। সিরিঞ্জ জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে অথবা একবার ব্যবহারযোগ্য সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে।

ইনজেকশনে কী ব্যবহার করা হয় : এখন ফেনলের সঙ্গে ভেজিটেবল অয়েল ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাজ্যে এ জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কুইনুরাইড সলুশন ব্যবহার করা হয়। ইনজেকশন দেয়ার সময় রোগীর টের পাওয়ার কথা নয়, ব্যথা পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ইনজেকশনের আগে ও পরে খাওয়া-দাওয়া, পায়খানা করা স্বাভাবিক থাকবে। ইনজেকশনের ফলে মিউকাস ঝিল্লির তলায় পাইলস শক্ত ও সংকুচিত হয়, ফলে পাইলসের ফুলে ওঠা মাংসপিণ্ডটি ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যায় এবং রক্ত পড়া বন্ধ হয়। কোন কোন হাতুড়ে চিকিৎসক পাইলসে ইনজেকশনের নামে বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করেন। এটি ব্যবহারের ফলে তীব্র বিষক্রিয়ায় প্রচণ্ড ব্যথা হয়, মলদ্বারে পচন ধরে, জ্বর আসে এবং দুর্গন্ধ হয়। এঅবস্থায় জরুরিভিত্তিতে চিকিৎসা না করলে পচন প্রক্রিয়া দেহের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে গিয়ে রোগীর মৃত্যুরও কারণ হতে পারে। অনেকের পরবর্তী সময়ে মলদ্বার সংকুচিত হয়ে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিক মলত্যাগ করতে পারে না। কখনও কখনও মলদ্বার ও রেকটাম নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে পেটে কৃত্রিম মলদ্বার বা কলোষ্টমী করতে হয়।

মলদ্বারের বাইরে ঝুলে পড়ে না এরূপ পাইলসে ইনজেকশন ভালো কাজ করে। যেসব ক্ষেত্রে ইনজেকশন ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষেধ তার মধ্যে রয়েছে- বহিঃস্থির পাইলস, আভ্যন্তরীণ পাইলস যখন সংক্রমিত অথবা থ্রম্বসিস হয়, পাইলসের সঙ্গে যখন ফিস্টুলা, টিউমার বা এনাল ফিশার থাকে।

ইনজেকশন কতবার দিতে হয় : সব পাইলসে একই সঙ্গে ইনজেকশন দেয়া উচিত। এতে যদি রক্ত পড়া বন্ধ না হয় তা হলে অন্য কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। অনেক সময় রোগী বলেন যে, আমি প্রতি সপ্তাহে একটি করে মোট সাতটি ইনজেকশন নিয়েছি তবুও কাজ হচ্ছে না। কোথায় নিয়েছেন জিজ্ঞেস করলে বলেন যে, হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে নিয়েছি। বারবার ইনজেকশন দেয়ার জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন- মলদ্বারে একটানা জ্বালাপোড়া। ডা. ডেনকার এক গবেষণায় পাইলস চিকিৎসার তিনটি পদ্ধতি যেমন- ইনজেকশন, রিংলাইগেশন ও অপারেশন-এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছেন যে, ইনজেকশন পদ্ধতির সাফল্য নিুমানের। এ কারণে তিনি মনে করেন যে, পাইলস চিকিৎসায় ইনজেকশন পদ্ধতি প্রাথমিকভাবে ব্যবহার করতে হবে এটা ঠিক নয়। ডা. আলেকজান্ডার উইনিয়ামস দীর্ঘদিন ইনজেকশন ও অন্যান্য পদ্ধতির পাইলস চিকিৎসা করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ইনজেকশন পদ্ধতি প্রথম ডিগ্রি পাইলসে স্বল্প মেয়াদে ভালো কাজ দেয়। এর সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ডা. মারবিন এ করম্যানের মতে প্রথম ডিগ্রি পাইলসেই ইনজেকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত এবং প্রতিটি পাইলসে কেবল একবার ইনজেকশন দেয়াই যথেষ্ট, এরপরও যদি উপসর্গ না কমে তবে বিকল্প কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত।

ইনজেকশন পদ্ধতি শুধু পাইলস চিকিৎসার জন্য। অন্য রোগে সম্পূর্ণ নিষেধ। ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ব্যবহারে সতর্কতার প্রয়োজন। একবার ইনজেকশন দিয়ে ভালো না হলে বারবার ইনজেকশন দিয়ে অধিক সুফল পাওয়া যায় না বলে রেকটাম ও মলদ্বার সার্জারি বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

সম্প্রতি ক্রিসেন্ট গ্যাস্ট্রোলিভার হসপিটাল থেকে ক্রনিক এনাল ফিসার অপারেশন সম্পন্ন হওয়া জানে আলম নামীও এক রোগীর সাথে কথোপকথনে জানা গেল এর বাস্তব অভিজ্ঞতা  ও খরচ সম্পর্কে। লেজার অপারেশনে সব মিলিয়ে তার আনুমানিক খরচ প্রায় ৫০ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন অপারেশনের মাধ্যমে তার দীর্ঘদিনের এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভ করায় তিনি বেশ খুশি।

For Advertisement

পূর্বাকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: